শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

কালীগঞ্জে ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের একটি ইটের সলিং রাস্তার কাজের মেয়াদ প্রায় এক বছর আগে শেষ হলেও রাস্তাটি এখনো সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ঝিনাইদহের মেসার্স কাজী মাহাবুবুর রহমান নামের ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইটবালি দিয়ে ইটের সলিং রাস্তার কাজ শুরু করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ কোন পরিত্যাক্ত রাস্তা বা বিল্ডিংয়ের বাদ দেয়া ইট দিয়ে এবং নিম্নমানের বালি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের সুন্দরপুর বাজার হতে ডুমুর তলার ব্রীজ (বেলে খাল) সড়কের (১৩শ মিটার) প্রায় এক মাইল ইটের সলিং রাস্তা এবং তিনটি কালভার্ট নির্মাণসহ ৪৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩শ টাকার কাজ পায় ঝিনাইদহের মেসার্স কাজী মাহাবুবুর রহমান নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কার্যাদাশে ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ কাজটি গত ২০/০৮/২০১৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ১৯/০৩/২০১৭ ইং তারিখে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের কাজটি শেষ হয়নি।

ডুমুরতলা গ্রামের আশিক ইকবাল, তৌহিদুল ইসলাম, আনারুল ইসলামসহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, ওই রাস্তার পুরাতন নষ্ট ইট যা ছিল তাই দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করছে। কাজের মান মোটেও ভাল না। এভাবে যদি রাস্তা করে তাহলে উপর দিয়ে গাড়ী গেলে নীচের ইট ভেঙ্গে যাবে। রাস্তাটিও বেশি দিন টিকবে না। প্রতিবাদ করলে ঠিকদাররা বলেন, আপনারা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যান। সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, অনিয়নের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণ হওয়ার খবরটি শুনে তিনি উপজেলা সমন্বয় সভায় বলেছেন। রাস্তাটি যাতে ইস্টিমেট অনুযায়ি করা হয় তিনি সেখানে সে দাবি রেখেছেন।

কাজটি দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিত কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী দিলীপ কুমার জানান, রাস্তা নির্মাণ করার কাজটি প্রায় এক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। নিম্নমানের ইটবালি দিয়ে রাস্তাটি করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা ইট, বালিসহ অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করে দেখবো। যদি ইস্টিমেট অনুয়ায়ি কাজ না হয় তাহলে বিল আটকে দিবো। রাস্তা নির্মাণ কাজের ঠিকাদার সাঈদ আহম্মেদ বলেন, বালি তো কুষ্টিয়ার। পাকশী থেকে ওই বালি আনা হচ্ছে। অনেক সুন্দর বালি। আমাদের বালি লাগে ০.৫ এমএম। কিন্তু যে বালি আমরা নিয়ে আসছি সেটা অনেক সুন্দর বালি। যদি কেউ এটা বলে থাকে ভুল বলেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সেটা দেখার জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েকটি রাস্তার কাজ নিম্নমানের হচ্ছে। সেগুলি দেখা হবে। এ রাস্তার বিষয়টিও আমি দেখবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com